আনন্দ বাংলা
আনন্দ বাংলা
আপডেট : শনিবার ৪ঠা জুলাই ২০২৬, ০৫:০৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। কৃষি কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদন, প্রণোদনা, ভর্তুকি ও বাজার ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষিত করা হবে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আয়োজিত মৎস্য অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বিশ্বাস করে, কৃষক অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলে জাতীয় অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আধুনিক, পরিকল্পিত ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে উৎপাদন বৃদ্ধি, কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা এবং কৃষকের আয় নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার ঘোষিত নীতি, কর্মপরিকল্পনা ও নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের গতির সঙ্গে নিজেদের কর্মদক্ষতা ও সক্ষমতা সমন্বয় করতে না পারলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা ও দক্ষতার মাধ্যমে সরকারপ্রধানের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া বিএনপির ৩১ দফা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সেই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে খালের পানি ব্যবহারের উদ্যোগ বাস্তবায়নেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
কৃষকদের জন্য সমন্বিত ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরির লক্ষ্যে কৃষি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পাইলট প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও অন্যান্য সব কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষক শনাক্তকরণ, সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকি সরাসরি বিতরণ, উৎপাদন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের উর্বর মাটি, অনুকূল জলবায়ু ও সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদকে সর্বোচ্চ কাজে লাগিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী করা হবে। কৃষকের সমৃদ্ধিই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তি—এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কৃষিবান্ধব নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, চট্টগ্রাম স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন, বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আতিয়ার রহমানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে কৃষি খাতের ওপর প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আপ্রু মারমা। প্রাণিসম্পদ খাতের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর এবং মৎস্য খাতের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা আক্তার।